ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহের সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা

ভ্যাট আহরণ হলেও অনেক সময় সরকারের কোষাগারে পৌঁছায় না

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভ্যাট একটি আধুনিক ব্যবস্থা। অন্যান্য কর ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক থাকলে ভ্যাট ও আয়কর নিয়ে তা নেই। তবে বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় ভ্যাট অনেক কম।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভ্যাট একটি আধুনিক ব্যবস্থা। অন্যান্য কর ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক থাকলে ভ্যাট ও আয়কর নিয়ে তা নেই। তবে বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় ভ্যাট অনেক কম। তার পরও আহরণকৃত ভ্যাট অনেক সময় যথাযথভাবে সরকারের কোষাগারে পৌঁছায় না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে গতকাল ‘জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদেশে ভ্যাট দেয়া ছাড়া কোনো কিছু কেনা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, আহরণ হলেও অনেক সময় সরকারের কোষাগারে ভ্যাট পৌঁছায় না।’

ভ্যাট প্রদানে মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ যেন দোকানে গিয়ে ভ্যাট দেয়, সেটার জন্য ব্যবসায়ীদের ইনফোর্স করতে হবে। ভারতের কলকাতায় গিয়ে দেখলাম ওষুধ কিনতে গিয়ে বিক্রেতা আমাকে বলছে ক্যাশমেমো নিতে হবে। এটা হচ্ছে জবাবদিহিতা। এগুলো আমাদের মধ্যে থাকতে হবে।’

দেশের কর-জিডিপির অনুপাত তুলে ধরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘নিজের সম্পদ না বাড়ালে কাজ করব কীভাবে। রাজস্ব বাড়াতে হবে। কোনো কোনো দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ২৬ শতাংশ। কারণ সে দেশে জনগণ সেবাও সঠিকভাবে পায়। নিজ দেশে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। দেশে যদি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়া যায় তাহলে মানুষ স্বেচ্ছায় রাজস্ব দিতে এগিয়ে আসবে।’

সালেহউদ্দিন আহমেদ ভ্যাট ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভ্যাট বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী আধুনিক করব্যবস্থা। কিন্তু সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক কম ভ্যাট সংগ্রহ করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভ্যাটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক দেশে জাতীয় আয়ে ভ্যাটের অবদান বেশি। কিন্তু আমাদের দেশে জিডিপির তুলনায় ভ্যাট সংগ্রহ অত্যন্ত কম। এর অন্যতম কারণ খুচরা ও ব্যবসায়িক পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’

বিদেশী দাতা সংস্থা বা ধার নিয়ে অর্থনীতি বেশিদূর এগোনো সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘‌দেশে উন্নয়নের নামে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না।’

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘‌অনেক আগে থেকে আমরা ভ্যাট চালু করেছি। কিন্তু নানা কারণে ভ্যাট ব্যবস্থা সবার জন্য চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে ২০১২ সালে এসে আইন করতে গিয়ে ভ্যাটের প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা খায়। নতুন আইন ১৯৯১ সালের আইনের চেয়ে সহজ হওয়ার কথা থাকলেও বরং জটিল হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেন না বরং জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করেন। এটি সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভ্যাট আহরণে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ডিজিটালাইজেশন করা। কিন্তু ডিজিটাল ব্যবস্থায় ৩২ বছর পরও ওই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। ব্যয় বেশি ও আয় কম হলে ঋণ বেড়ে যায়। এটা যেমন পরিবারের জন্য সত্য, দেশের জন্যও তেমনই প্রযোজ্য।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভ্যাট অডিট সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভ্যাট নীতি সদস্য মো. আজিজুর রহমান।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সহসভাপতি ইয়াসির আজমান।

আরও